MANOBER KARIGORI

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

Title: MANOBER KARIGORI       Medium: Installation       Year: 2017

- An installation art project collaboration with Nowshin Tarannum
“মানবের কারিগরি” (ভেতর বাহির)


আদম, আমি,আমরা,আমাদের তথাপি মানবের সাথে এই জগতের মধ্যবর্তী গল্পের সংযোগস্থল আমাদের এই মানবদেহ।আর এই দেহের সঙ্গে জগতের কিংবা জগতের সঙ্গে দেহের সংযোগকাল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কাল বা সময়ের কথা।জগতে ঈশ্বরের কৃপায় অথবা প্রকৃতির প্রাণী জগতের বিবর্তনে সৃষ্ট সভ্যতার ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী হল মানুষ। প্রত্যেকপ্রাণীজাতই কোন না কোন বিশেষ গুণাবলি বা শক্তিধর। একমাত্র মানবজাতির মধ্যেই কেবল এই পৃথিবীর প্রায় সমস্ত গুণ,শক্তিও ক্ষমতা রয়েছে। শারীরিক শক্তির সাথে আমাদের রয়েছে নানা মানসিক শক্তি আর প্রবনতা।রয়েছে এ জগতের মূল উপাধানসমূহ। আর শ্রেষঠত্বের পেছনে আমাদের মূল শক্তি হল আমাদের চিন্তাশক্তি আর ইচ্ছাশক্তি।যা না থাকলে আজকের এইসভ্যতার জন্ম হত না।আমরাও প্রকৃতিতে অন্যসব প্রাণীর মতই কেবল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়তাম।অথচ আপনঅস্তিত্বের উপলব্ধি অর্জন, টিকে থাকার পাঠ চুকিয়ে আমার মস্তিষ্কে নানা চিন্তার উকিঁঝুকিঁ,অজস্র কৌতুহল।নিজের দিকেতাকালে দেখি মৌলিক চাহিদা ব্যাতীত বহু ভিন্ন চাহিদায় আমি এক ভিন্ন প্রাণী।প্রতিদিন আমি দেখি, কৌতুহলী হই আর শিখি।এভাবে তিলতিল করে বদলাই আমি। প্রথম নিজের সৃজনশক্তির ধারনা পেয়ে মেতে উঠি সৃজনে।হঠাৎ চিন্তার উদয় হল আমায়সৃষ্টি কে করেছে? হন্যে হয়ে খুজছি তাকে।হিসেব কষতে শুরু করলাম প্রতিটি মূহুর্তের চষে বেড়ালাম সমগ্র জগতটা। প্রকৃতিরআপন সৃজন,প্রজনন দেখে আমি ও অংশগ্রহণ করলাম তাতে।আর অনবরত খুজে বেড়ালাম সেই অচিন পাখিটাকে।জগতেরসব শক্তির আরাধনা করে পেলাম না। দূর আকাশে আছে ভেবে তাকে খুজতে গিয়ে দেখলাম মহাকাশ,ভাবলাম পাব গিয়ে দেখিশূন্যের সম্মুখে আছে অগণিত মহাশূন্য।স্থলে,জলে, অগ্নি,বায়ুতে কোথাও নেই অথবা আছে সর্বময়।অস্থির আমি এবার আপনসৃজনশক্তির বলে রূপ দিলাম তার। যে যার মতই রূপ দিল তার।কথা হল, কে আসল কে নকল? আমিতে আমিতে লড়াই, আত্মহননে মেতে উঠলাম আমি। মানবে মানবে যুদ্ধ হল তার জন্য।আর সে নাকি কেবলই পাথরমূর্তি দাঁড়িয়েছিল। আপনহারায়ে দিশেহারা তার সন্ধানী আমি ইতোপূর্বে অনেক কিছুর সন্ধান পেয়েছি জ্ঞানের স্বাদ নিতে নিতে জগতের ভেতর আমারএকটা জগত হল।মানবে আলাদা এক জগত যার মূলে তার সমস্ত জ্ঞান যা মানবসভ্যতা নাম নিল। জ্ঞানঅর্জন,উদ্ভাবন,আত্মহনন, লড়াই, যুদ্ধ, আর ধবংসলীলা।মানদন্ডে আমরা ওজন করলাম কার কতটা আছে।এরমধ্যে একবারস্থির করলাম এই প্রকৃতিরই সৃষ্টি আমি অন্য সবার মতন আমি এর ছোট্ট একটা অংশ কেবল।তবু সৃজনের মূলে কর্তা থাকে এজ্ঞানে এবার সামনে, পিছে উপরে নিছে নয় স্থিরচিেত্ত ভেবে আমি তার রূপ দিলাম নিরাকারে। এভাবেই চলছে আজ ও।নতুননতুন রূপের খোজেঁ। এত উদ্ভাবন,দর্শন,জ্ঞান, বিজ্ঞান, তত্তব,ধর্ম আরও অজস্র ধারনার জন্ম হল।জগত ময় রাজত্ব শুরু হলআমার, প্রকৃতির উপর ও রাজত্ব চলছপ আমার।বিগত সকল জ্ঞান নিয়োজিত হয়ে গেল রাজকাজে ব্যস্ত হয়ে পরলাম।অথচমনের গহীনে আজ ও কেবল সন্ধান চলছে তবে পরম নয় এবার স্বরূপের সন্ধানী আমি জগতে আমার অবস্থান,অস্তিত্বসবকিছুর সঙযুক্তিস্থল এ দেহ নামা খাচাঁটার তাকালাম। স্থিরচিত্তে লক্ষ করলাম আমিময় সমস্তকিছুর কেন্দ্র এ দেহ। সুনিপুন এদেহটাই অনন্য করেছে আমায়। এ প্রকৃতির এক অপরূপ প্রকাশ।অন্দরমহলে আছে আর এক অস্তিত্বের আভাস। ধরা ছোঁয়ারবাইরে কেবল উপলব্ধি করা যায় তাকে,অনুভব করা যায় তার গভীরতাকে।নিশ্চিত বলা যায় তাকে ধারন করাই এ দেহের কাজ।সে চলে আপন খেয়ালে।তারে ধরার চেষ্টা ও দুরাশা।কারন জগতের কোন শক্তি তাকে স্পর্শ করতে পারবে না,যদি সে না চায়।এআমারই কিংবা এটাই আমি।তবু ও এর দর্শন মিলে না সহজে।একে ধরা যায় না সহজে। অথচ এটাই আমার স্বরূপ। অথচতারে না দেখে জগতের সবটা দেখেও ভরেনি মন।আর সমকালের আত্মকেন্দ্রিক চরিত্রাবলি সুস্পষ্ট ধারনা দেয় তার।তারে ধরতেপারলেই যেন ধরা যাবে সব।তার সন্ধানেই মিলবে মহাকালের হিসেব।বৈষ্ণব বা সুফিবাদ এ চর্চার ধারনা দিয়েছে নানা ভাবে।আমার ভেতরেরর আমিটাকে ধরতে হবে সহজ ভালবাসা দিয়ে তবেই শান্তি আর মিলবে মুক্তি এই আমিময় অনন্ত বিশ্বে।আরশিনগরের সেই পরশি কিংবা ঘডির মিস্তির সন্ধান আছে স্বরূপে দেহ নামক আমার এই মানব সঙযুক্তির বন্দরে।